দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লিওনেল মেসির বিদায়ের দিনে পর্তুগাল জাতীয় দল নিয়ে বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের শিবির ছেড়ে যাওয়ার নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরে কোচ জর্জ জেসাসের বিরুদ্ধে কথা না রাখার অভিযোগ করেছেন পর্তুগিজ মহাতারকা। প্রায় দুই হাজার শব্দের দীর্ঘ বিবৃতিতে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
রোনালদোর দাবি, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সূচি নিয়ে জর্জ জেসাসের সঙ্গে তার একটি সমঝোতা হয়েছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে না খেললেও পর্তুগালে থেকে যাওয়ার কথা ছিল না তার। অধিনায়ক হিসেবে সতীর্থরা যখন সফরে যাবেন, তখন নিজে দেশে থেকে যাওয়ার কারণে যেন কোনো ভুল বার্তা তৈরি না হয়, সেটিই তিনি চেয়েছিলেন।
তবে পরে সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন রোনালদো। তার ভাষ্য, জর্জ জেসাস তাকে নরওয়ের বিপক্ষে অন্তত ৩০ মিনিট খেলানোর কথা জানান।
রোনালদো বলেন, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ম মেনে তিনি ওয়ার্ম-আপও করেছিলেন। কোচের কথায় পূর্ণ আস্থা রেখে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিলেও শেষ পর্যন্ত তাকে খেলানো হয়নি। তার মতে, সেখান থেকেই জর্জ জেসাসের ওপর বিশ্বাসে চিড় ধরে।
এরপর পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচের সঙ্গে বৈঠকও হয় বলে জানান রোনালদো। তার দাবি, ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ডেনমার্ক ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে জর্জ জেসাস বিষয়টি পরিষ্কার করবেন এবং জানাবেন, রোনালদো নিজে থেকে খেলতে চাওয়ার জন্য কোনো চাপ দেননি।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য আগের সমঝোতার সঙ্গে মেলেনি বলে দাবি করেন রোনালদো। বরং জর্জ জেসাসের আচরণে তিনি আগ্রাসী মনোভাব দেখেছেন বলেও জানান। তার মতে, এটিই ছিল কোচের পক্ষ থেকে দ্বিতীয়বার কথা না রাখার ঘটনা।
এরপরই জাতীয় দলের শিবির ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন রোনালদো। তবে নিজের সিদ্ধান্তের দায় পুরোপুরি নিজের কাঁধে নিয়েছেন তিনি। রাগ বা অভিমানের বশে শিবির ছেড়ে যাওয়া তার উচিত হয়নি বলে স্বীকার করে সতীর্থ ও দেশের সমর্থকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।
রোনালদো আরও জানিয়েছেন, এ ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন কোনো শাস্তি দিলে সেটিও তিনি মেনে নেবেন। অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি ছিল বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
তবে বিবৃতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি দিয়েছেন পর্তুগালের হয়ে ভবিষ্যৎ নিয়ে। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো স্পষ্ট করেছেন, দেশের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। পর্তুগালের হয়ে মাঠে নেমে জয়ের ক্ষুধাও আগের মতোই রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফলে জর্জ জেসাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বের পরও জাতীয় দলে রোনালদোর অধ্যায় এখনই শেষ হচ্ছে না—এমন বার্তাই পাওয়া গেছে তার বক্তব্যে।
ঘটনার সময়টিও আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মেসির বিদায়ের দিনে যখন বিশ্ব ফুটবলে আবেগ, স্মৃতি ও বিষাদের আবহ, ঠিক একই সময়ে রোনালদোর বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্ষোভ, অভিমান ও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার সুর। দুই মহাতারকার ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় তাই একই সময়ে দুই ভিন্ন আবহে সামনে এসেছে।
এমএস/